বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর জানিয়েছেন, তিনি সিলেট থেকে প্রচার শুরু করবেন এবং হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে প্রচারণা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনসভায় অংশ নেবেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের দিন এবং পরদিন ২২ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করতে পারবে। ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান জানান, বিএনপি ওই দিন থেকেই তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে।
এই প্রচারণার মাধ্যমে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে বিএনপির নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন তারেক রহমান
ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত চাঁদপুর-২ (মতলব) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. মো. জালাল উদ্দিন ও তার পরিবারের চার সদস্যের পাঁচটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর রোববার এই আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, জালাল উদ্দিন ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন, তা বৈধ করার চেষ্টা এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে তাদের নামে পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়, যেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। দুদক জানায়, এসব অর্থ বিদেশে পাচার বা বেহাত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তদন্তের স্বার্থে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর একই আদালত জালাল উদ্দিন, তার স্ত্রী শাহানাজ শারমীন, দুই ছেলে ও মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দিন ও পরিবারের পাঁচ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের তুলনায় বিএনপির প্রার্থী মো. কামরুল হুদা সম্পদে অনেক এগিয়ে আছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, কামরুল হুদার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং বার্ষিক আয় ৮০ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৫ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ ২ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার ৯১৪ টাকা, যানবাহন, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ মোট অস্থাবর সম্পদ ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬০ টাকার সম্পদ।
অন্যদিকে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. তাহেরের মোট সম্পদ ১ কোটি ৮০ হাজার ১৯২ টাকা, তবে তার স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর নামে রয়েছে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার ৫৫৫ টাকার সম্পদ। ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ১৭টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাকি মামলায় তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন। ২০০৮ সালে তার সম্পদ ছিল ১ কোটি ২ লাখ টাকা, যা ২০২৬ সালে কমে ১ কোটি ৮০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির ফলেই এই পার্থক্য ঘটেছে।
কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াতের ডা. তাহেরের চেয়ে সম্পদে এগিয়ে বিএনপির কামরুল
২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এ উপলক্ষে ১১ জানুয়ারি হজ এজেন্সি মালিক ও হজযাত্রী পরিবহনকারী তিনটি এয়ারলাইন্সকে চিঠি পাঠিয়ে সৌদি সরকারের নির্দেশনা এবং ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন, ২০২৬’ কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একই সার্ভিস কোম্পানির আওতাভুক্ত হজযাত্রীদের একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। প্রতিটি হজ এজেন্সিকে তাদের মোট হজযাত্রীর অন্তত ২০ শতাংশকে প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায়ে এবং প্রথম ও শেষ পর্যায়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ হজযাত্রীকে পাঠাতে হবে। কোনো এজেন্সি প্রথম বা শেষ পর্যায়ে ৩০ শতাংশের কম বা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করতে পারবে না।
নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা ও টিকিট ইস্যুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল শুরু, নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো সম্পন্ন করেছে। ইসি সতর্ক করেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের নামে পাঠানো ব্যালট খামের ওপর রাজনৈতিক প্রচার চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালিম আহমাদ খান রোববার এ তথ্য জানান। ইসির বার্তায় বলা হয়, পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধিত ভোটারদের নিজে ব্যালট সংগ্রহ করতে হবে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ করলে এনআইডি কার্ড ব্লকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসী ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয় এবং অনেকেই ইতোমধ্যে তা পেয়েছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর প্রবাসীরা ভোট দিয়ে ব্যালট রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানায় পাঠাবেন। দেশের ভেতরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যাদের কাছে প্রতীক বরাদ্দের পর ব্যালট পাঠানো হবে।
ইসি জানিয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন এবং দেশের অভ্যন্তরে ব্যালট পাঠানো ও ফেরত আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় সাত দিন সময় লাগবে।
ত্রয়োদশ নির্বাচনে ১৫ লাখের বেশি ভোটারের পোস্টাল ব্যালট পাঠানো সম্পন্ন করেছে ইসি
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে নির্বাচন প্রস্তুতি, সমতাভিত্তিক মাঠ এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ইইউ আসন্ন নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে তারা কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। ইভারস আইজাবস আগের তিনটি নির্বাচনকে অবিশ্বাসযোগ্য বলে উল্লেখ করলেও এবার ইতিবাচক পরিবেশের কথা বলেন। অধ্যাপক ইউনূস ইইউকে আশ্বস্ত করেন যে নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি থাকবে এবং সেনাবাহিনী দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে এবং ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠানো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার স্বীকৃতি।
বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে ইইউ
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আব্দুল মোবিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে আপিল পর্যালোচনা শেষে কমিশন তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে। এর আগে হলফনামায় স্বাক্ষর সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।
মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে ডা. মোবিন আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পান। সিদ্ধান্তের পর তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট এবং ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চাঁদপুর-২ আসনে প্রাথমিকভাবে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। আপিল শুনানির পর কয়েকজনের প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. মোবিনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া এ আসনের নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মোবিনের প্রার্থিতা পুনর্বহাল
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রোববার বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পতিত সরকারের লোকজন নির্বাচনে মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। এর আগে তারা তিনটি নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি, কারণ সেগুলোকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে না এবং বর্তমানে একটি ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে গণভোট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রেস সচিব বললেন, আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আসন্ন জুলাই সনদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনসহ জাতি গঠনের বর্তমান সুযোগের পুরো কৃতিত্ব জুলাই গণঅভ্যুত্থানের। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসন উৎখাত হলেও তার আইন ও সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে, এবং এই স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
রেজাউল করীম দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সরকারকে জুলাই সনদের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের ফলে জুলাই সনদের আলোচনা আড়ালে চলে গেছে, যা হতাশাজনক। তার মতে, জুলাই সনদের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন প্রদর্শিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন উভয়ই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
জুলাই সনদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে ঐক্যের আহ্বান চরমোনাই পীরের
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২ আসনের পুরোনো সীমানা পুনর্বহালের হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই স্থগিতাদেশের ফলে নতুন সীমানা অনুযায়ী আসন দুটিতে নির্বাচন করতে আইনি কোনো বাধা নেই।
এর আগে ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত গেজেটের অংশবিশেষকে অবৈধ ঘোষণা করে আগের সীমানা পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ে কুমিল্লা-১ আসনে দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা এবং কুমিল্লা-২ আসনে হোমনা ও মেঘনা উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
চেম্বার জজ আদালতের এই স্থগিতাদেশ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) দায়ের না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। ফলে আপাতত নতুন সীমানা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পারবে।
কুমিল্লা-১ ও ২ আসনের পুরোনো সীমানা পুনর্বহালের রায় স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ
রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন-পরবর্তী তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আকি আবে ‘ইনকারেজমেন্ট অব সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন’ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফর করছেন। বৈঠকের তথ্য ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সাংবাদিকদের জানান।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ড. ইউনূস প্রথমত ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করবেন, যাতে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারের স্বাস্থ্যতথ্য জানতে পারেন। দ্বিতীয়ত, তরুণ উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তৃতীয়ত, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবেন তিনি।
উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ড. ইউনূস জাপান সফরে যাবেন, যেখানে সামুদ্রিক গবেষণা ও ওশান রিসার্চে সহযোগিতা জোরদার নিয়ে আলোচনা হবে।
আকি আবের সঙ্গে সাক্ষাতে স্বাস্থ্য, তরুণ ও এসডিজি নিয়ে তিন অগ্রাধিকার জানালেন ড. ইউনূস
সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন সামরিক ও নৌঘাঁটিতে হামলা চালাবে। তিনি আরও বলেন, ইরান কোনো হুমকি অনুভব করলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘাঁটিগুলোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এই সতর্কবার্তা আসে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান বিক্ষোভে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইসরাইল সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে, গত দুই দিনে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এই পরিস্থিতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সামরিক পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিল ইরান
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে না। রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তার মতে, বর্তমানে সব দলের জন্য ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিদ্যমান।
শফিকুল আলম জানান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। আগের তিনটি নির্বাচনে তারা কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি, কারণ সেগুলোকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। তিনি বলেন, নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কারণ পতিত সরকারের লোকজন মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সরকার প্রতিটি ঘটনার ওপর নজর রাখছে।
তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে গণভোট নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রেস সচিবের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করছে সরকার
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে সাত বছর বয়সী আফনান গুরুতর আহত হয়েছে। শনিবার রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে রোববার সকালে গোলাগুলি সীমান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি গুলি আফনানের বাড়িতে এসে লাগে। তাকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানান, শিশুটির মাথায় গুলি লেগেছে এবং তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
প্রথমে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ পরে নিশ্চিত করে যে শিশুটি তখনো জীবিত ছিল। বর্তমানে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে আফনান নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের গুলিবিনিময় বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মিয়ানমার সীমান্তে গুলিতে আহত সাত বছরের আফনান চমেকে আইসিইউতে সংকটাপন্ন
পাকিস্তান জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের সেই মন্তব্য, যেখানে ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা নিয়ে কথা বলা হয়েছিল। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারতের বক্তব্য অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত এবং এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ। তারা আরও বলেছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক একটি সার্বভৌম বিষয়, যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের সম্মতির প্রয়োজন নেই।
ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রণধীর জেসওয়াল ৯ জানুয়ারি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে জে এফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে চলমান আলোচনা নয়া দিল্লি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই মন্তব্যের আগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানদের মধ্যে বৈঠকে যুদ্ধবিমান ক্রয় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের আইএসপিআর জানিয়েছে, এই সফর ঐতিহাসিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের মন্তব্য অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত বলে জানাল পাকিস্তান
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের নির্বাচনি সভা, সমাবেশ বা প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনপূর্ব সময়ে আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রার্থী বা তাদের পক্ষের লোকজন সেমিনার, সংবর্ধনা বা যুবসমাবেশের নামে ভোটারদের জমায়েত করে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়াই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ বা হলরুম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নির্বাচনি আচরণের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাবেশ না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা ও সমাবেশ নিষিদ্ধ
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত গত তিনটি জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর ইইউ জানিয়েছে, তারা আসন্ন নির্বাচনে বড় একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে।
শফিকুল আলম বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশে ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে এবং সরকার কোনো দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, সোশ্যাল মিডিয়া নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কারণ পতিত সরকারের লোকজন মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকার ও নির্বাচন কমিশন মনে করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে গণভোট নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইইউ, আগের তিনটি নির্বাচন এড়িয়েছিল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংস্কার প্রশ্নে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে ২৭০ জন ‘অ্যাম্বাসেডর’ বা প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচনি মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলমের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়েছে, যেসব আসনে এনসিপির নিজস্ব প্রার্থী রয়েছে, সেখানে প্রার্থীর নেতৃত্বেই প্রচারণা চালানো হবে এবং তিনি কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন।
যেসব আসনে এনসিপির প্রার্থী নেই, সেখানে ২৭০ জন অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হবে। তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এনসিপির অবস্থান, গণভোটের গুরুত্ব এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন।
দলটি জানিয়েছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে সারা দেশে সমন্বিত ও সর্বব্যাপী প্রচারণা নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রার্থী থাকা বা না থাকা—সব আসনেই জনগণের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায় এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারে ২৭০ জন অ্যাম্বাসেডর পাঠাবে এনসিপি
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে করা প্রসিকিউশনের আবেদন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টি ১১ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার নিশ্চিত করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে, যেখানে এক অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্য অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রসিকিউশন সাজা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই আপিল দায়ের করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এই আপিলের শুনানি চলতি সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিলের শুনানি এই সপ্তাহে
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে রাজধানীর মিরপুরে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। তিনি রোববার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
শামসুজ্জামান বলেন, পরীক্ষার আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কিছু প্রশ্ন উদ্ধার করলেও সেগুলোর সঙ্গে মূল প্রশ্নের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তিনি স্বীকার করেন, প্রশ্নফাঁসের চেষ্টা হয়েছিল, তবে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের ঘটনাই ঘটেছে। এ ঘটনায় ২০৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মামলা ও সাজা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে, যেমন অতীতে দুটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকায় পরীক্ষা আয়োজন, ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার ব্যবহার, স্বতন্ত্র কমিটি গঠন এবং প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস অভিযোগে তদন্ত করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০৪ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।